বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে দলবদ্ধভাবে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার তিন জন ছাড়া অপরাপর আসামীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের অনেককে আদালত প্রাঙ্গনেও দেখা গেছে। অনেকে এলাকায় প্রকাশ্যে রয়েছে।
গত বুধবার (২৭ জুলাই) সকালে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসা দুই জন আসামীর উপর হামলা চালায় সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অন্তত ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। আত্মসমর্পণ করতে আসা দুই জন আসামী আদালতের এজলাস কক্ষে আশ্রয় নিলেও হামলা থেকে রক্ষা পাননি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করলেও অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর কোর্টের সিএসআই মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় রাতে দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটক ৩ জন সহ ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়। আত্মসমর্পণ করতে আসা আসামীর সাথে আদালত প্রাঙ্গণে আসা ইমাম হোসেনসহ আরো কয়েকজন আহত হয়।
ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও আত্মসমর্পণ করতে আসা আসামীর সাথে আদালত প্রাঙ্গণে আসা স্বজনরা জানান, পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের মৃত মো: বকসুর পুত্র আবুল কালাম, আবু ছৈয়দ ও রেজু, শামসুল আলমের পুত্র আবু ছিদ্দিক ও নাছির উদ্দীন, মৃত উমর আলীর পুত্র খুরশিদ আলম, রাশেদ আলী, শাহেদ আলী, মো: জাহেদ আলী ও মো: সাজ্জাত, আমির হামজার পুত্র আরিফুল্লাহ, মৃত এরশাদ আলীর পুত্র জয়নাল আবেদীন, মৃত আমিন মোহাম্মদের পুত্র মুবিন, মৃত মো: হাশেমের পুত্র মো: ছব্বির, মৃত আজিজুল হকের পুত্র আবদুল খালেক, মৃত ইউছুপ আলীর পুত্র বাবুল সহ ২০/২২ জন দলবদ্ধভাবে কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনা ঘটায়। এর মধ্যে ৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের অনেককে আদালত প্রাঙ্গনে দেখা গেছে। অনেকে নিজ এলাকায় প্রকাশ্যে রয়েছে।
হামলার শিকার এক আসামীর স্ত্রী জানান, ‘আত্মসমর্পণ করে আমার স্বামী কারাগারে রয়েছে। আদালত প্রাঙ্গনে আমার স্বামীর উপর হামলাকারী আবুল কালাম, শাহেদ আলী, জয়নাল উদ্দীন, আবু ছৈয়দ সহ কয়েকজন আমাকে গালিগালাজ ও হুমকি ধমকি দেয়। যার কারনে ছেলে মেয়ে নিয়ে আমি চরম আতংকে ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ ইফতেখার মাহমুদ জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উক্ত মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সদর) বিচারক আবুল মনসুর এর আদালতে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে মামলার প্রধান আসামী মো: সাজ্জাত এর একদিনের রিমান্ড ও মো: জাহেদ আলী ও আরিফুল্লাহকে জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন আদালত। হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নেয়া হচ্ছে।
মামলার বাদি কক্সবাজার সদর কোর্ট পুলিশের এসআই মজিবুর রহমান মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ২৭ জুলাই সকাল ১০টারদিকে দু’জন লোক আকস্মিকভাবে দৌড়ে এসে কক্সবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষে আশ্রয় নেয়। পরে ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী লোক লাঠি-সোটা, ইট পাটকেল ইত্যাদি সহ সজ্জিত হয়ে আকস্মিকভাবে দলবদ্ধভাবে শক্তির মহড়া প্রদর্শন করে আদালতের এজলাস কক্ষে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা এজলাস কক্ষে আগত বিচারপ্রার্থী লোকজনের মধ্যে ভয়ানক আতংক, অরাজকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হামলাকারিরা বিক্ষিপ্তভাবে ভাংচুর শুরু করে এবং কোর্ট এলাকার নির্মাণাধীন ভবনের ইট, পাথর নিয়া এলোপাতাড়ি ইট ও তাদের পরিহিত জুতা এজলাস কক্ষের ভিতরে আশ্রয়ে থাকা লোকদের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করে। এসময় আদালতে দায়িত্বরত কোর্ট পুলিশ সদস্যসহ আদালতের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। কিন্তু, তারা কোন কিছুই পরোয়া না করে এজলাস কক্ষের দরজা ভাংচুরের চেষ্টাসহ ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় এজলাস কক্ষে আশ্রয় নেওয়া উক্ত দু’ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপুরি ইটের টুকরা নিক্ষেপ করলে তা লক্ষ্যচ্যুত হয়ে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. নজরুল ইসলাম খাঁন এর মাথা ঘেঁষে চলে যায় এবং এতে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। পরে ঘটনাস্থলে অবস্থানরত দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি কোর্ট ইন্সপেররকে অবহিত করার পাশাপাশি সদর মডেল থানাকেও অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজার সদর থানার অফিসার এসআই এস.এম.এম আতিকুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স সহকারে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং আসামীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মোঃ সাজ্জাত, মোঃ জাহেদ আলী ও আরিফুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের গ্রেফতারের পর উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল হতে একটি কাঠের লাঠি, স্যান্ডেল, কংক্রিটের ঢালাই আলামত হিসাবে তালিকামূলে জব্দ করেন। গ্রেফতার আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে করলে উক্ত মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। যা (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪/৫ অপরাধ করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ভশেস/আআ